প্রেমবিলাসী
_______অনিক(বসন্তের কবি)
_______________________
গত তিনমাস যাবত মেয়েটিকে এই
বাসস্টান্ডে দেখা যায় ঠিক যেন সকাল ৮টা
থেকে ৮টা ১৫ মিনিটের মধ্যে।অসম্ভব সুন্দর
মেয়েটি যার সম্পর্কে বিবরন দেবার মত
কোন ভাষা হয়তো সৃষ্টি করেনি ঐ
সৃষ্টিকর্তা।তবে এতটুকু মনে হয় মেয়েটি ঠিক
যেন সকালে বাগানের ফুটন্ত একটি
গোলাপ,যার সুবাস ভ্রমর আসতে বাধ্য।
প্রয়োজন ছাড়া হয়তো এত সকালে কখনো
বাহিরে বের হওয়া পড়েনা আমার কিন্তু
ইদানিং এত সকালেই আমি বের হচ্ছি
উদ্দ্যেশহীন বাসস্টান্ডে। যথারীতি
মেয়েটিকে আজও ঠিক সময়েই পাওয়া যায়
তবে ভিন্ন রূপে।গত তিন মাস যাবত
মেয়েটিকে একরুপে দেখলেও আজ দেখাটা
পুরোই ভিন্ন।নীল রঙ্গের একটি শাড়ি জড়িয়ে
আছে মেয়েটির শরীরে, শাঁড়ি পরিধানে
কাউকে ভাললাগা এটাই হয়তো আমার প্রথম।
আজ কেমন জানি বার বার মেয়েটির সাথে
কথা বলতে ইচ্ছে করতেছে। একটু সাহস করে
মেয়েটির কাছে গিয়ে _______
আমি- পিছন থেকে Hello
মেয়েটি-আমার দিকে তাকিয়ে "জি আমি"
আমি-হ্যা
মেয়েটি -বলেন
আমি-কিছু মনে না করলে আপনার নামটি
জানতে পারি।
মেয়েটি-আমতা আমতা করে জি "তাঁছলিমা"
ততক্ষনে বাস চলে আসায় মেয়েটি চলে যায়।
আমিও খুশি মনে বাসায় চলে আসি।ঐ দিন
সারাটা রাত চোখের ঘুম লুকোচুরি খেলে
আমার সাথে।সকালের অপেক্ষা করতে করতে
এক সময় স্বপ্নের সকাল চলে আসে, ভাবনা
একটাই মেয়েটিকে আজ মনের কথা বলতেই
হবে।উদ্দ্যেশনিহীত বাসস্টান্ডে পথে আমি,
দূর থেকেই দেখা গেল স্বপ্নকুমারি
তাছলিমাকে,গোলাপি ড্রেসে দাঁড়িয়ে
আছে মনে হচ্ছে আমার জন্যই অপেক্ষা
করছে কিন্তু না অপেক্ষা করছে বাসের জন্য।
কাছে গিয়েই______
আমি-হায় কেমন আছেন
মেয়ে-জি ভাল, কিছু বলবেন
আমি-আসলে গতকাল একটা কথা বাকি ছিল
শেষ করতে পারিনি।
মেয়ে-জি আজ তাইলে শেষ করুন।
আমি-আসলে আমি কিছুটা লাজুক,যে কারনে
গত তিন মাস শুধু আপনাকে দেখেই গেছে দূর
থেকে।
মেয়ে-হুম যানি তো, ব্যাপারটা আমিও
খেয়াল করছি, তো আর কিছু।
আমি-চোখ বন্ধ করে "আমি আপনাকে
ভালবাসি"
মেয়ে-মানে
আমি-জি ভালবাসি
মেয়ে-চুপচাপ দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন পর বললেন,
আপনি কি করেন,আচ্ছা আপনার মানিব্যাগটা
দেন তো দেখি।
আমি-কিছুনা বেকার,আর মানিব্যাগ মানে
কি করবেন।
মেয়ে-বেকার তো প্রেম করতে আসছেন কেন,
দেখি মানিব্যাগে কত টাকা আছে।।।।
জোরপূর্বক মেয়েটি আমার মানিব্যাগটা
দেখে এবং বিশ টাকার দুটি নোট দেখে
আমার উদ্দ্যেশে বলে _______
মেয়ে- দেখেন আমার রূপে আপনারমত বহু
প্রেমিক ঘুরতেছে।কিন্তু আমার প্রেমিক হতে
হলে তাকে কোটিপতি হতে হবে মিঃ।
বাস চলে আসে অতঃপর মেয়েটি চলে যায়।
বেদনার বড় একটা পথ পাঁড়ি দিয়ে অতঃপর
বাসায় আসি।তারপর থেকে কখনোই ঐ
স্বপ্নের বাসস্টান্ডের ধুলি আমার পায়ে
স্পর্শ করেনি।
ততদিনে আমার ডক্টরি পড়া প্রায় শেষের
দিকে পরিক্ষা দিলাম ভাল রেজাল্ট
করলাম।ডক্টরি পড়া শেষে একটা ডক্টরি
স্কলারশিপের জন্য এক বছরের জন্য
অস্ট্রেলিয়া যাই।বছর শেষে দেশে ফিরেই
ঢাকা পঙ্গু হসপিটালে সহকারি অধ্যাপক
হিসেবে জয়েন করি।
বেশ ভালই যাচ্ছিল আমার ডক্টরি জিবন।
ডক্টরি জীবনের দেড় মাসের মাথায় এক
অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে আমার সাথে যা কখনোই
কল্পনা করিনি।
সেদিন ছিল রবিবার যথাসময়ে হসপিটালে
পৌছাই আমি।সকাল ১১টার দিকে শেখ
ফজিলাতুন নিসা মেডিকেলের এক ডক্টরের
রেফারেন্সে আমার হসপিটালে একটি রোগী
আসে।সাধারন চেকআপের জন্য আমি
ড্রেসিং রুমে যাই, কিন্তু গিয়ে দেখি
অদ্ভুতকান্ড,হুইলচেয়ারে বসে আছে একটি
মেয়ে, মেয়েটি আর কেউ না আমার স্বপ্নের
বাসস্টান্ডের সেই মেয়েটি স্বপ্নকুমারী
তাছলিমা। ততক্ষনে বুঝতে বাকি নেই রোগী
কে।হতভম্ভ হয়ে বসে পড়লাম।
অবশেষে স্বপ্নকুমারী তাছলিমার কাছে সব
ঘটনা শুনলাম।।।।।।।
আমি সম্ভবত যখন স্কলারশীপের জন্য
অস্ট্রেলিয়া ছিলাম তখন তাছলিমা এক বাস
দূর্ঘটনায় তার দুটি পা হারায়।।।।।।।।।।।।।।
.
সারসংক্ষেপ -- গল্পটি অবাস্তব,লেখকের
চিন্তধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে।তবে
গল্পের কিছু কিছু চরিত্র বাস্তবতার সাথেই
আনা হয়েছে।তবে এটা সচেতনতার জন্য
উপস্থাপন করা হয়েছে
No comments:
Post a Comment